যখন ছোট ছিলাম, মনে হত মা বুঝি ভালোই বাসেন না। কখনও জড়িয়ে ধরে আদর করেছেন এমন স্মৃতি নেই। আমার সাধারণ সরকারি চাকুরে বাবার সংসারে, গৃহ সহায়তাকারী র সাহায্য ছাড়া মা সকাল থেকে রাত কাজে ব্যস্ত থাকতেন। তার ফাঁকে আমাকে আর ভাইকে পড়াতেন, অসুস্থ বাবার সেবা করতেন আর একটু অবসর পেলে নাকে চশমা এঁটে গল্পের বই। আমি খুব বাবার ভক্ত ছিলাম। বাবা তুমুল ভালোবাসতেন, দশপাতা হাতের লেখা না হলে লাঠির বাড়ি দিতেন, মাঝরাতে ঘুম থেকে তুলে কে. সি. নাগের না করতে পারা অঙ্ক কষাতেন, আবার সুস্থ থাকলে নেচে ও নিতেন। মা, তুলনায় ভীষণ চাপা, প্রচ্ছন্ন। বাবার অতি শাসন থেকে কখন ও বাঁচাতে ও আসতেন না। সেই ছোট্ট বেলা থেকে আমায় নিজের জামা নিজে ধুতে হত। কত ছোট? সাত, আট বছর হবে। মা কে খুব কড়া, হৃদয় হীন মনে হত।
বাবার ছিল দুরারোগ্য হাঁপানি। তখন ইনহেলার ইত্যাদি ছিল না। বাবা শুতে পারতেন না, মা পাশে বসে থাকতেন। বাবা হাসপাতালে, মা ও সঙ্গে। আমাদের সংসার কী ভাবে চলেছে কখনও ভাবিনি। মা র শরীর চলছে কি না সে বোধ ও ছিল না। আমরা দুবেলা রাঁধা ভাত পেয়েছি, ইস্কুল গেছি, লেখাপড়া করেছি। মা র কোনও দামী শাড়ি টাড়িও ছিল না। কোনও দিন গয়না গড়াতে দেখিনি। আমাদের পরিবারে অজস্র আত্মীয় স্বজনের যাওয়া আসা লেগেই থাকত। আমাদের বেশ মজাই হত। মা'র কথা অত ভাবনাতেই আসত না।
মা গান গাইতেন। অসাধারণ সুরেলা গলা। রেডিও তে শুনে শুনে তোলা। কোনও দিন বলিনি মা গান শোনাও।
আমার বাবা বলতেন "তোর মা আমার মর্ত্যে র ভগবান"।
বাড়ি র কাজ আমাকে আর ভাইকে সমান ভাবে করতে হত। খাবার সময় দুধের সর আর চাঁচি খাওয়া নিয়ে মারামারি বন্ধ করার জন্য পালা হয়েছিল। একদিন ভাই সর আমি চাঁচি, অন্য দিন উল্টো। বিছানা করা, মশারি টাঙানো সবের পালা পড়ত।
আমার ভয়ঙ্কর অসুস্থ বাবার দেখাশোনা তার উত্তুঙ্গ মেজাজ সামলানো মা অবিচল হয়ে করতেন। আমার পিসিরা বাবাকে বকতেন মেজাজ খারাপ করার জন্য। মা বলতেন রোগের জ্বালায় ও এমন করে। আমি ও যদি রেগে যাই, ও মানুষটা কোথায় যাবে?
মা'র যখন সাতচল্লিশ, বাবা মারা যান।
আমার মা এখন আটষট্টি। একা থাকেন। এখনও একাই লাইটের বাল্ব বদলান, ফিউজ লাগান। একা একা দাঁত তুলে চলে আসেন। আমার বা ছেলের জ্বরজ্বালা হলে দেখতে আসেন। ব ই পড়েন, শাড়ি তে অ্যাক্রিলিক রঙ দিয়ে ফুল পাতা আঁকেন, বোনের স্কার্ট দিয়ে বাহারি ব্যাগ বানিয়ে ব্যবহার করেন।
আমার প্রচ্ছন্ন থাকা মা ,দরকারে ভীষণ কঠিন কথা বলতে পারা মা, আমার ভাইয়ের ব উ এর 'ভালো মা', নন ইন্টারফিয়ারিং মা তাঁকে আমি এখন বুঝতে পারি।
বাবার ছিল দুরারোগ্য হাঁপানি। তখন ইনহেলার ইত্যাদি ছিল না। বাবা শুতে পারতেন না, মা পাশে বসে থাকতেন। বাবা হাসপাতালে, মা ও সঙ্গে। আমাদের সংসার কী ভাবে চলেছে কখনও ভাবিনি। মা র শরীর চলছে কি না সে বোধ ও ছিল না। আমরা দুবেলা রাঁধা ভাত পেয়েছি, ইস্কুল গেছি, লেখাপড়া করেছি। মা র কোনও দামী শাড়ি টাড়িও ছিল না। কোনও দিন গয়না গড়াতে দেখিনি। আমাদের পরিবারে অজস্র আত্মীয় স্বজনের যাওয়া আসা লেগেই থাকত। আমাদের বেশ মজাই হত। মা'র কথা অত ভাবনাতেই আসত না।
মা গান গাইতেন। অসাধারণ সুরেলা গলা। রেডিও তে শুনে শুনে তোলা। কোনও দিন বলিনি মা গান শোনাও।
আমার বাবা বলতেন "তোর মা আমার মর্ত্যে র ভগবান"।
বাড়ি র কাজ আমাকে আর ভাইকে সমান ভাবে করতে হত। খাবার সময় দুধের সর আর চাঁচি খাওয়া নিয়ে মারামারি বন্ধ করার জন্য পালা হয়েছিল। একদিন ভাই সর আমি চাঁচি, অন্য দিন উল্টো। বিছানা করা, মশারি টাঙানো সবের পালা পড়ত।
আমার ভয়ঙ্কর অসুস্থ বাবার দেখাশোনা তার উত্তুঙ্গ মেজাজ সামলানো মা অবিচল হয়ে করতেন। আমার পিসিরা বাবাকে বকতেন মেজাজ খারাপ করার জন্য। মা বলতেন রোগের জ্বালায় ও এমন করে। আমি ও যদি রেগে যাই, ও মানুষটা কোথায় যাবে?
মা'র যখন সাতচল্লিশ, বাবা মারা যান।
আমার মা এখন আটষট্টি। একা থাকেন। এখনও একাই লাইটের বাল্ব বদলান, ফিউজ লাগান। একা একা দাঁত তুলে চলে আসেন। আমার বা ছেলের জ্বরজ্বালা হলে দেখতে আসেন। ব ই পড়েন, শাড়ি তে অ্যাক্রিলিক রঙ দিয়ে ফুল পাতা আঁকেন, বোনের স্কার্ট দিয়ে বাহারি ব্যাগ বানিয়ে ব্যবহার করেন।
আমার প্রচ্ছন্ন থাকা মা ,দরকারে ভীষণ কঠিন কথা বলতে পারা মা, আমার ভাইয়ের ব উ এর 'ভালো মা', নন ইন্টারফিয়ারিং মা তাঁকে আমি এখন বুঝতে পারি।